আরো খবর প্রতিবেদন: দু’বছরের বেশি সময় ধরে অশান্ত মণিপুর। গোষ্ঠীহিংসায় দীর্ণ মণিপুরে নিহত হয়েছে বহু মানুষ। ঘরছাড়া হাজার হাজার। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল অশান্ত মণিপুরকে শান্ত করার কোনও সদিচ্ছা নেই কেন্দ্রের সরকারের। প্রশ্ন তুলে বলা হয়, কেন সেখানে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি? যেখানে পালা করে গিয়েছেন বিরোধীরা। হিংসা শুরু হওয়ার এবার ২৮ মাস পর অবশেষে মনিপুরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার দুপুরে মিজোরাম থেকে বিমানে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে পৌঁছন তিনি।
সেখান থেকে হেলিকপ্টারে কুকি অধ্যুষিত চুড়াচাঁদপুর জেলায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সড়কপথে সেখানে পৌঁছন তিনি। চুড়াচাঁদপুর শহরে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। ৭০০০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, মণিপুরে সড়ক এবং রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করতে পদক্ষেপ করছে সরকার। ওই সভা থেকেই শান্তির ডাক দেন তিনি। বলেন, ‘আমি সব সংগঠনের কাছে অনুরোধ করছি, আপনারা সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে শান্তির পথে আসুন। মণিপুরের উন্নতির জন্য ভারত সরকার কাজ করে চলেছে।’
মনিপুরের পাহাড়ি এলাকায় কুকি ও উপত্যকা জুড়ে মেইতেই গোষ্ঠীর সংঘাতে তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য। ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন বিজেপির এন বীরেন সিং। মণিপুরে শুরু হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। এখনও শান্ত হয়নি মনিপুর। সেই মনিপুরে কেন যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী? বিরোধীরা লাগাতার এই প্রশ্ন তুলতে থাকে। শেষবার ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মণিপুরের মাটিতে পা রেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এরপর ২০২৩ সালের মে মাসে ভয়াবহ হিংসার আগুনে জ্বলে ওঠে উত্তর পূর্বের রাজ্য মণিপুর। শতাধিক মৃত্যুর খবর উঠে আসে। বারবার বিরোধীদের তোপের মুখে পড়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। প্রশ্ন ওঠে, কবে মণিপুরে পা রাখবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী? অবশেষে তিনি গেলেন মনিপুরে। শনিবার সকালে মণিপুরে পৌঁছে প্রথমে চুড়াচাঁদপুর সফর করেন। সেখানে হিংসায় ঘরছাড়াদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং শান্তির আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সব সংগঠনকে অনুরোধ করব শান্তির পথে এগিয়ে যেতে। মণিপুরের অগ্রগতির জন্য শান্তি অপরিহার্য। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে।’
২০২৩ সালের জাতিগত সংঘাতের পর এটাই মোদির প্রথম সফর হলেও কংগ্রেস প্রবল সমালোচনা করে। ইম্ফলে বিক্ষোভ দেখায়। ঐতিহাসিক কাঙ্গলা ফোর্টের অদূরে মণিপুর কংগ্রেস ভবনের সামনে সকাল থেকে দলীয় কর্মীরা প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁদের হাতে পোস্টারে লেখা ছিল, ‘বিজেপি শাসনে মণিপুর জ্বলছে’ এবং ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধ করো’।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এক্সে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘৮৬৪ দিন ধরে হিংসা চলছে, ৩০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, ৬৭ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত, ১,৫০০-র বেশি আহত। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ৪৬টি বিদেশ সফর করেছেন, কিন্তু মণিপুরে নিজের নাগরিকদের পাশে দাঁড়াতে আসেননি। শেষবার তিনি এসেছিলেন জানুয়ারি ২০২২ সালে নির্বাচনের সময়!’



