আরো খবর প্রতিবেদন: দেশের গণতন্ত্র সবার সমান অধিকার দিয়েছে। সেই গণতন্ত্রে সবাই গণতন্ত্রে সমানভাবে থাকুক। দেশের সকল প্রকৃত ভোটার ভাল থাকুক। পোস্তায় জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে এই কথা বতে সোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ চান না তিনি। বুধবার পোস্তায় জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন মঞ্চ থেকে এসআইআর নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়।
সংবিধানে সবার সমান অধিকার। আমরা বিভেদের রাজনীতি করি না। যারা বিভেদের রাজনীতি করে তাঁদের ঘৃণা করি। সব থেকে বড় ধর্ম হল মানবিকতা ও মনুষত্ব। জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘আমরা সকল উৎসবই পালন করি। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমি আর কিছু চাই না। আমাদের দেশ ভাল থাক। বাংলা ভাল থাক। মানুষ ভাল থাক। আমি ডিভাইড অ্যান্ড রুল চাই না।’ দেশের গণতন্ত্র ভোটারদের বড় অধিকার দিয়েছে। সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব প্রকৃত ভোটার ভাল থাকুন। গণতন্ত্রের পিলারকে মজবুত রাখতে হবে। প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার যেন সুরক্ষিত থাকে। সকলে যেন নিজ নিজ অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।’ দেশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে গান্ধীজি, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম, সর্দার বল্লভভাই পটেল প্রমুখের নাম করেছেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা সবাইকে একজোট হয়ে থাকতে হবে। তবেই ‘শক্ত করা যাবে মুঠি’। তিনি বলেন, ‘মানবিকতা, মনুষ্যত্ব সবচেয়ে বড় ধর্ম। পাঁচটা আঙুল একসঙ্গে আছে বলেই আমাদের মুঠি শক্ত হচ্ছে। সাদা-কালো, ভাল-খারাপ, ছোট-বড় তো সর্বত্র থাকে। বজ্রমুষ্ঠি আলাদা করা চলবে না। রামকৃষ্ণ দেব, স্বামী বিবেকানন্দ, স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণও এ কথা বলেছেন।’
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় পর্বে গত মঙ্গলবার থেকে এসআইআর শুরু হয়েছে বাংলা, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরল, লাক্ষাদীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি এবং আন্দামান নিকোবরে। ভোটার তালিকা ভুয়ো ভোটারমুক্ত করার চেষ্টায় এসআইআর করছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে বিহারে ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়ে যা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সোরগোল পড়ে যায়। বাংলায় এসআইআর-এর ফলে একজন প্রকৃত ভোটারেরও নাম বাদ গেলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তৃণমূল। বুধবার পানিহাটিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, একজন প্রকৃত ভোটার বাদ গেলে এক লক্ষ লক নিয়ে কমিশন ঘেরাও করা হবে।’
এসআইআর ঘোষণার পর ২৪ পরগনার আগরপাড়ায় বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন প্রদীপ কর নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগ, এনআরসি আতঙ্কে তিনি আত্মঘাতী হয়েছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তরবঙ্গ থেকেও বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা একজনের। এখানেও সামনে এসেছে এনআরসি আতঙ্ক। বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পোস্তা থেকে ভার্চুয়ালি গোটা রাজ্যের একাধিক জগদ্ধাত্রী পুজো উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় দিনহাটার পুজো উদ্বোধন করার আগেই তিনি সেখানকার বিধায়ক উদয়ন গুহকে নির্দেশ দেন। বলেন, ‘দিনহাটায় একজন বিষ খেয়েছে। আমি জানতে পেরেছি। তুমি ফিরে গিয়ে ওঁর বাড়ি যাবে।’
বুধাবার পোস্তাবাজার মার্চেন্টস অ্যাসেসিয়েশনের জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের পাশাপাশি চুঁচুড়া, ভদ্রেশ্বর ও অন্যান্য এলাকার জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনও করেন ভার্চুয়ালি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মা পূজিতা হন সর্বত্রই। আজ, মহাষ্টমীর পুজো চলছে। পুজো-উৎসব আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে। তাতেই আমরা ভালো থাকি। মানুষ ভালো থাকলে আমি ভালো থাকি।’
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যখনই এলাকার কোনও সমস্যা নিয়ে গিয়েছেন, আমি চেষ্টা করেছি তা সমাধানের। বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমস্যা ছিল। আমি মলয় ঘটককে বলে সেই সমস্যাটা তো সমাধান করেছি। তারপর বড়বাজারে ফায়ার ব্রিগেড করা হয়েছে। করোনার সময় এই পোস্তা বাজার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন সবাইকে বাড়ি থেকে তুলে এনে বলেছিলাম বাজার খুলতে। এখানে বহু দাহ্য পদার্থ মজুত থাকে। ফলে আগুন লেগে যায়, সেই দিকটায় নজর দিতে হবে। সেফটি-সিকিউরিটির যাতে প্রবলেম না হয় সে বিষয়টি নজরে রাখতে হবে।
এখানে অনেক পুরনো বাড়ি আছে, যেগুলো ভেঙে যাচ্ছে। আপনারা নিরাপত্তার স্বার্থে পুরসভার নোটিশ মেনে কাজ করুন। ভাবছেন এই বাড়ি যদি দিয়ে দিই, তা হলে আমাদের আর বাড়ি মিলবে কি না। আমি বলছি, যার যতটা অধিকার আছে, তারা সবাই পাবেন, সার্টিফিকেটও পাবেন। নতুন ঘর তৈরি হলে সবাই পাবেন। আপনার অধিকার, আপনারই থাকবে। কিন্তু জীবন সবার আগে। বাড়ি ভেঙে পড়লে জীবন চলে যেতে পারে।
উত্তরবঙ্গে বিপর্যয়ে বিরাট ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। যাদের বাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে তাদের বাড়ি করার টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্ধোধন মঞ্চ থেকে তিনি জানান, ২ -৩ দিনের মধ্যে টাকা পেয়ে যাবেন উপভোক্তারা।



